বরুড়ায় ধান কাটার শ্রমিক সেজে বাড়িতে ঢুকে বৃদ্ধাকে হত্যা হত্যা
- আপডেট সময় : ০৮:৪০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৩২ বার পড়া হয়েছে

ধানকাটার শ্রমিক সেজে বাড়িতে ঢুকে বৃদ্ধাকে হত্যা, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩
দেলোয়ার বি,এসসি | ক্রাইম রিপোর্টার
কুমিল্লার চান্দিনায় ধানকাটার শ্রমিকের পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে ছমিরন খাতুন (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), কুমিল্লা জেলা।
গ্রেপ্তাররা হলেন—ঢাকার কদমতলী এলাকার আবদুর রহীমের ছেলে শরীফুল ইসলাম শান্ত (২৭), কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কালিরহাট যশপুর এলাকার জাফর আলীর ছেলে মো. মাসুম বিল্লাহ ওরফে রবিন (৩১) এবং লাকসাম উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকার নুরু মিয়ার ছেলে আরাফাত হোসেন (১৪)। পিবিআইয়ের দাবি, মাসুম বিল্লাহ ওরফে রবিন এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মে ২০২৬ ইং সকালে চান্দিনা উপজেলার অলিপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ছমিরন খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শয়নকক্ষের দরজা খোলা, কাঠের আলমারি ভাঙা এবং ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়। একই সময় বাড়িতে থাকা ধানকাটা শ্রমিকদেরও পাওয়া যায়নি।
তদন্তে জানা যায়, আসামিরা পূর্বে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ফিশারি ঘাট এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় একসঙ্গে কাজ করতেন। পরে ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে তারা কুমিল্লায় এসে ছমিরন খাতুনের বাড়িতে অবস্থান নেন।
পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন ধান কাটার সময় ধান নষ্ট করা ও ঠিকমতো কাজ না করাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে ছমিরন খাতুন ও তার স্বামীর কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়ার পর আনুমানিক রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে আসামিরা ছমিরন খাতুনের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ঘর থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা ও আনুমানিক ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. বশির আহাম্মদ চান্দিনা থানায় অজ্ঞাতনামা মামলা করেন। চান্দিনা থানা-পুলিশ সাত দিন তদন্তের পর ১০ মে মামলাটি পিবিআই কুমিল্লা জেলার কাছে হস্তান্তর করে।
পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আমিরুল ইসলাম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত ১২ থেকে ১৫ মে শরীফুল ইসলাম শান্ত ও আরাফাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর মূল পরিকল্পনাকারী মাসুম বিল্লাহ ওরফে রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত আরও একজন আসামি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গতকাল শনিবার সকালে কুমিল্লা নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় পিবিআই জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান। তিনি বলেন, নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডটির রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।























